WELCOME TO MY BLOG SITE

WELCOME TO MY BLOG SITE

WELCOME TO MY BLOG SITE

WELCOME TO MY BLOG SITE

WELCOME TO MY BLOG SITE

PopUp

Showing posts with label Romantic Love Story. Show all posts
Showing posts with label Romantic Love Story. Show all posts

Tuesday, September 12, 2017

★উপলব্ধি★


★উপলব্ধি★

খেলাটার ক্লাইম্যাক্সে এসে পৌঁছেছে অর্ক। চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতের ধারাভাষ্যের মত বলতে হয়, 'টানটান উত্তেজনা'। অর্কের মেজাজটা বিগড়ে গেল। কে যেন কলিংবেল বাজাচ্ছে। আম্মুটাও যেন কেমন। উঠে দরজা খোলার নাম গন্ধ নেই। ফিসফিস করে ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে। এদিকে যে কলিংবেল টিপছে, সে খুবই অস্থির হয়ে আছে। যেন অন্ধকার কূপের মধ্যে পড়ে গেছে। অর্ক ভাবতে লাগল, এমন সময় কে আসতে পারে। আব্বু আসে রাত দশটার দিকে। তখন টিভিতে টম&জেরি কার্টুন হয়। এখন কে আসতে পারে? অর্ক কম্পিউটারের মনিটরের থেকে চোখ না ফিরিয়ে বলল, আম্মু প্লিজ, দরজাটা খোল।
না, আম্মুর উঠার নামগন্ধ নেই। অগত্যা অর্কেরই উঠতে হল।
দরজার পিপ হোলটা একটু উপরে। অর্ক একটা চেয়ার টেনে পিপ হোল দিয়ে তাকাল। আব্বু এসেছে। দরজা খুলে এক লাফে তপুর কোলে উঠে গেল অর্ক।
-আমার সুপারম্যান।
-আব্বু, গুড ইভনিং।
-গুড ইভনিং মাই সন। কী করছিলে?
-গেম খেলছিলাম।
-আম্মু কোথায়?
-ঘরে আছে।
ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বাপবেটার কথোপকথন চলছিল। তনু কোলবালিশে পা তুলে শুয়ে ফোনে কথা বলছিল। তপু ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ফোনটা কানের উপর থেকে নামিয়ে রাখল।
-কী ব্যাপার, আজ এত আগে এলে যে?
-এমনিতেই। অফিসে কাজ শেষ, তাই চলে এলাম।
-একবার ফোন দিতে পারতে। যাইহোক, ফ্রেশ হও। আমি বাথরুমে টাওয়েল আর গরম পানি দিয়ে আসছি।
-আচ্ছা।
অর্ক তপুর কাছে এসে বলল, আব্বু, একটা হেল্প করবে?
-লেভেল পার করে দিতে হবে?
মুখটা ভার করে অর্ক বলল, হুম। অনেকবার ট্রাই করলাম বাট পারলাম না।
-লেভেল পার করে দিলে আমাকে কী দিবে?
-দুইটা পাপ্পি দেব।
-ওকে।
তপু একবারেই লেভেলটা পার হল। অর্ক তপুকে জড়িয়ে ধরে বলল, থ্যাংক ইউ আব্বু। উম্মা।
-ওয়েলকাম মাই সন।
তনু এসে বলল, যাও। বাথরুমে পানি দিয়ে এসেছি।
তপু উঠে গেল। তনু অর্ককে ধমক দিয়ে বলল, অনেক গেম খেলা হয়েছে। পড়তে বস।
অর্কের মনটা খারাপ হয়ে গেল। আম্মু ইদানীং কেমন যেন হয়ে গেছে। ভালভাবে কথা বলে না। আব্বু বলে। অর্ক বলল, আব্বু গোসল করে আসার পর পড়তে বসব।
তনু দ্বিতীয় কথা বলল না। ফোনটা হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। দুই মিনিটের মাথায় ফিরে এসে ফোনটা অফ করে রেখে দিল।
তপু বাথরুম থেকে বেরিয়েছে। ফ্রেশ লাগছে এখন। ওদের বাসাটা দক্ষিনমুখী। একটা শীতল বাতাসের প্রবাহ হতেই থাকে। তনু শুয়ে পড়েছে। সবেমাত্র সাড়ে সাতটা বাজে। এখন ডিনার করাও সম্ভব না। অর্কের পড়া শেষ হলে খেতে বসবে। অর্ককে পড়াতে হবে।
-আব্বু, আমার ম্যাথগুলো করে দাও।
-কাল শুক্রবার না? আজ থাক। তুমি গেম খেল।
-থ্যাঙ্ক ইউ আব্বু।
তপু বারান্দায় এসে বসেছে। এইমুহূর্তে হাতে এক কাপ চা হলে মন্দ হয় না। তনুকে ডেকে বলল, তনু, চা খাওয়াতে পারবে?
তনু কোন জবাব দিল না। তপু নিজেই কিচেনে গেল। সে ভালই চা বানাতে পারে। চা বানিয়ে দুজনে একসাথে খাওয়া যাবে। ব্যাপারটা মন্দ হবে না।
কিচেনের সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো। বিয়ের পর তনু খুবই গোছালো স্বভাবের ছিল কিন্তু ইদানীং কেমন যেন অগোছালো হয়ে গেছে। কিচেনে লাইটার খুঁজে না পেয়ে নিজের লাইটারটা নিয়ে এল।
চুলায় পানি টগবগ করে ফুটছে। চা পাতা এখন দিয়ে দিতে হবে। এবং সাথে সাথে নামিয়ে ফেলতে হবে। চা পাতা বেশি সিদ্ধ হলে র চায়ের স্বাদ ঠিক থাকে না। নিজের চায়ে চিনি কম দিল আর তনুর জন্য চিনি বেশি দিয়ে চা বানাল।
চা বানানো শেষে কেতলি পড়ে গেল মেঝেতে। ঝনঝন শব্দ শুনতে পেল তনু। উঠে এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে।
-সরি, কেতলিটা পড়ে গেল। খেয়াল করিনি।
-আমাকে ডাকতে পারতে।
-ডেকেছিলাম। আর দেখলাম তুমি শুয়ে পড়েছ। ভাবলাম তোমার শরীর খারাপ। তোমার জন্যও চা বানিয়েছি। চল, বারান্দায় বসে চা খাই।
কেমন একটা অনিচ্ছায় তনু বারান্দায় এসে তপুর সাথে বসেছে। বারান্দায় ডিম লাইট জ্বালানো। অল্প আলোয় তনুর বিষণ্ণ মুখটা তপু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
-তনু, তোমার কী হয়েছে?
তনু বোধহয় শুনতে পায়নি। সে জানালার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
-এই তনু!
তনু চমকে উঠল।
-কী হয়েছে তোমার?
-কিছু না।
-বেশকিছু দিন যাবৎ তুমি কেমন যেন হয়ে গেছ। এনিথিং রং?
-নাথিং।
-ওহ, চা কেমন হয়েছে?
-চিনি দাওনি কেন?
-ওহ হো। আমারটা তোমার কাছে, তোমারটা আমার কাছে চলে এসেছে। এঁটো করে ফেলেছি। খাবে?
-দাও।
-আচ্ছা, তোমার মোবাইলে কল ওয়েটিং সার্ভিসটা অন করো। প্রায়ই ফোন বিজি পাই। ইমার্জেন্সী কেউ ফোন করে তোমাকে যদি না পায় তাহলে....
-তুমি কিভাবে জানলে আমার ফোন বিজি থাকে?
-আমি জানব না? দিনে কম হলেও দশবার ফোন দেই। আজ অফিস থেকে আসার আগেও ফোন দিলাম কিন্তু... আর তুমি অভিযোগ করলে কেন ফোন দিয়ে আসলাম না।
তনু চুপচাপ হয়ে গেল। চা শেষ। তপু সিগারেট ধরালো। বাতাসে সিগারেটের ধোঁয়া তনুর দিকে যাচ্ছে।
-এই, ধোঁয়ায় তোমার সমস্যা হলে ঘুরে বস।
-না, সমস্যা নাই। সাত বছর ধরে সহ্য করছি।
-সাত বছরে কিন্তু আর সহ্যের মধ্যে থাকে না, অভ্যাস হয়ে যায়। তুমি কি অভ্যস্ত হও নি?
তনু জবাব দিল না। তপু সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে আধখাওয়া সিগারেট ফেলে দিয়ে বলল, আমি কিন্তু তোমার বর্তমান আচরণেত সাথে অভ্যস্ত না।
-কেমন?
-এইযে তুমি অগোছালো হয়ে গেছ, তুমি এমন ছিলে না। এমন ভাবগাম্ভীর্য ছিল না তোমার মধ্যে। তোমার কোন সমস্যা থাকলে আমাকেই তোমার বলা উচিৎ।
-কোন সমস্যা নাই।
-সমস্যা না থাকলে ভাল। যাও, ডিনার রেডি কর। খেয়ে নিই।
তনু হ্যাঁ না কিছু না বলে উঠে গেল। দশমিনিট পর ডাকল, খাবার রেডি। আস।
তপু আর অর্ক পাশাপাশি বসেছে আর তনু ওদের সামনের চেয়ারে। খাবারের মেনু গরুর মাংস, চিংড়িমাছ। তপু গরুর মাংস খুব পছন্দ করে। তনু তপুর প্লেটে মাংস তুলে দিল।
-কী ব্যাপার? তুমি খাবে না?
-না, খিদে নেই।
-এটা কেমন কথা? ডিনার না করলে রাতে তোমার ঘুম হয় না। দিনেও তো.....
কথা না বাড়িয়ে তনু প্লেটে এক চামচ ভাত আর চিংড়িমাছের তরকারি নিল। অর্ক কথা বলছে না। খাবার টেবিলে কথা বলা আম্মু পছন্দ করে না। তারপরও সে তপুর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, আব্বু, আরেকটা চিংড়িমাছ নিব।
-এই, অর্কের প্লেটে চিংড়িমাছ দাও।
-তোমার কানের কাছে বলা লাগবে কেন? আমাকে বললে কি দিব না?
-ব্যাপারটা ঠিক তা নয় তনু। তুমি ওর সাথে আরেকটু নরম সুরে কথা বলতে পার। ও তোমাকে ভয় পায়।
-আমাকে ভয় পায় মানে? আমি বাঘ নাকি ভাল্লুক?
-মানুষ বাঘ ভাল্লুকের চেয়ে মানুষকেই বেশি ভয় পায়।
অর্ক খাওয়া শেষ করে হাত উঁচু করে বসে আছে। আব্বুর খাওয়া শেষ হলে একসাথে বেসিনে গিয়ে হাত ধোবে।
পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে তপু। হাতে টিভির রিমোট। চ্যানেল ঘুরাচ্ছে শুধু। তনু আগে এই সময় সিরিয়াল দেখত। কিন্তু ইদানীং সে টিভিই দেখে না। একটা চ্যানেলে রবীন্দ্রসঙ্গীত হচ্ছে,
আমার যাবার বেলায় পিছু ডাকে
ভোরের আলো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে
পিছু ডাকে, পিছু ডাকে.....
গান শুনতে শুনতে তপু ঘুমিয়ে পড়ল। তনু ঘুমায়নি। মাঝরাতে একবার উঠে বারান্দায় গেল। নেটওয়ার্ক খুব ডিস্টার্ব করছে, ঠিকমতো কথা বোঝা যাচ্ছে না।
সকালবেলা তপু উঠে কিচেনে গিয়েছে। আজ অর্কও আগেভাগে ঘুম থেকে জেগেছে। ছুটির দিনে তার ঘুম ভেঙে যায় কিন্তু স্কুল যেদিন খোলা থাকে, ঘুম থেকে উঠতেই মন চায় না। সে তপুর সাথে কিচেনে আছে।
-আব্বু, আজ তুমি ব্রেকফাস্ট রেডি করবে?
-হুম। 
-কী রান্না করবে?
-পরোটা বানাব আর গতরাতের গরুর মাংসটা গরম করব। চলবে?
-হুম। বাবা, আম্মুকে ডাকি?
-না, থাক। তোমার আম্মুর রাতে ঘুম হয় না। তাই দিনে একটু ঘুমাক।
-আচ্ছা।
ব্রেকফাস্ট রেডি করে তপু তনুকে ডাকল। সে উঠে ফ্রেশ হয়ে একসাথে ব্রেকফাস্ট করল। কোনকিছু বলছে না।
-তনু, চল। আজ ঘুরে আসি।
-কোথায়?
-যেখানে যেতে চাও।
-না, থাক। আমি যাব না। তুমি বরং অর্ককে নিয়ে বেড়িয়ে আসো।
-ওকে। তবে, গেলে তোমার ভাল লাগত।
তনু জবাব না দিয়ে উঠে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। কোলবালিশে এক পা তুলে কাত হয়ে শুয়ে আছে। তপু আর অর্ক বের হয়ে গেছে।
-আব্বু, কোথায় যাব?
-বল তো, কোথায় যেতে পারি?
-চিড়িয়াখানা?
-হুম, ইউ আর ভেরি ইন্টেলিজেন্ট।
-থ্যাঙ্ক ইউ আব্বু।
চিড়িয়াখানায় ঢুকে তারা বিভিন্ন পশুপাখি দেখছে। বানরের খাচার সামনে থেকে অর্ক নড়ছে না। ওদের কর্মকাণ্ডে সে খুব মজা পাচ্ছে। ঘুরাঘুরি করে রেস্টুরেন্টে গেল।
-কী খাবে অর্ক?
-পিৎজা।
-ওকে।
তপু অর্ডার করল। ওর খেতে ইচ্ছে করছে না। একটা কোল্ড ড্রিংক নিয়ে তাতে চুমুক দিচ্ছে। অর্ক পিৎজা খেয়ে শেষ করেছে। ফাস্টফুড সে খুব পছন্দ করে কিন্তু ঘরের খাবার খেতে চায় না।
-আব্বু, একটা কথা বলব?
তপু অবাক হয়ে তাকালো অর্কের দিকে। তার কণ্ঠ চেঞ্জ হয়ে কেমন পরিণত বয়সী মনে হচ্ছে।
-কী? বল।
-আম্মু কেমন যেন চেঞ্জ হয়ে গেছে।
-কী রকম?
-আগে অনেক কেয়ার করত কিন্তু এখন করে না।
-তোমার আম্মু কোন মানসিক চাপে আছে হয়তো। ঠিক হয়ে গেলে আবার তোমার কেয়ার করবে। তোমাকে একটা প্রশ্ন করি, তুমি কাকে বেশি ভালবাস?
অর্ক একটু ভেবে বলল, আম্মুকে।
বাসায় আসতে আসতে দুপুর হয়ে গেছে। খাওয়াদাওয়া করে একটা ঘুম দিল তপু। ছাড়াছাড়া একটা স্বপ্ন দেখল সে। যে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা যায় না।
পরদিন অফিসে তপুর ফোন এল অর্কের স্কুল থেকে।
-মি. তপু বলছেন?
-জ্বি।
-অর্ককে নিতে আসবে না কেউ?
-কেন? ওর আম্মু যায়নি?
-না।
-আচ্ছা, আমি এক্ষুণি আসছি।
তপু অফিস থেকে দ্রুত বের হয়ে গেল। স্কুল পুরোটাই ফাঁকা। শুধু কয়েকজন টিচার আছে।
তপু অর্ককে নিয়ে সরাসরি বাসায় চলে এল। তাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। বাসায় তনু নেই। ফোন দিলে রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না। শেষ বিকেলে তনু বাসায় এল। ঘরে ঢোকার আগমুহূর্তে সে কারও সাথে ফোনে কথা বলছিল।
-তোমাকে খুব ক্লান্ত লাগছে। দুপুরে নিশ্চয় খাওয়া হয়নি, যাও। ফ্রেশ হয়ে নাও।
তনু কোন কথা বলল না। গোসল করে এসে দেখে তপু বারান্দায় ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে সিগারেট টানছে।
-খাবে না?
-আমি খেয়ে এসেছি।
-ওকে। ফ্লাস্কে চা রাখা আছে। আমার আর তোমার জন্য চা নিয়ে আস। চা খেতে খেতে কথা বলি।
তনু চা নিয়ে এসে বসেছে। তনুর চূলগুলো ভেজা। মুখের উপর একগোছা চুল পড়ে আছে। গোসলের পর চেহারায় কেমন একটা স্নিগ্ধতা আসে যা গরম চায়ের চেয়ে সুমধুর।
-অধিকার ফলাবো না, জানতে চাচ্ছি, কোথায় গিয়েছিলে?
-এক ফ্রেন্ডের বাসায়।
-অর্ককে তোমার আনতে যাওয়ার কথা। যেতে পারবে না- আমাকে বললেই পারতে।
-খেয়াল ছিল না।
-বাহ, তুমি একজন মা, সন্তানের কথা খেয়াল থাকে না।
-আসলে আমি......
-চুপ। একদম চুপ।
তপু খুব জোরে ধমক দিল। এতদিনের সংসার জীবনে তপু এমন আচরণ কখনো করেনি।
-তুমি আমাকে কী ভাব? বোকা? কিছুই বুঝি না? তুমি তোমার এক্স বয়ফ্রেন্ডের সাথে যেদিন থেকে যোগাযোগ শুরু করেছ, আমি জানি।
-তুমি কিভাবে জান?
-বললাম তো, আমাকে বোকা না ভাবলে খুশি হব। জেনেও আমি চুপ থেকেছি। কিছুই বলিনি। ভেবেছিলাম, তুমি নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারবে। কিন্তু.... আচ্ছা, একটা কথা বল তো, আমি কি তোমাকে ভালবাসি না?
তনু চুপ করে আছে। কিছুক্ষণ পর বলতে শুরু করল, তপু, আমি তোমাকে ভালবাসি কি না জানি না। কিন্তু ইদানীং আমার মনে তোমার স্থান নেই। আমার মনে অন্য কেউ আছে। আমি জানি, এটা ভুল। কিন্তু মাঝেমাঝে ইচ্ছে করেই ভুল করতে হয়। এভাবে আমাদের সংসার চলবে না। আমি তোমাকে ছাড়তে চাচ্ছি।
-তুমি আমার সাথে থাকতে চাচ্ছ না? যদি না চাও, তাহলে চলে যেতে পার। যেতে চাইলে কাউকে ধরে রাখা যায় না। আর আমি ধরে রাখার চেষ্টা করব না। কারণ তুমি কোন ষোড়শী নও, চব্বিশ বছরের যুবতি নারী। যার স্বামী আছে, সংসার আছে, আর সাত বছরের একটা ছেলে আছে, তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। তবে একটা কথা বলি।
তপু চায়ের কাপ মেঝেতে ফেল দিল। কাপটা টুকরোটুকরো হয়ে গেছে।
-তনু, চাইলে আমরা ভাঙতে পারি, কিন্তু চাইলেই আগের মত জোড়া লাগাতে পারি না। তুমি কিছু সময় নাও ভাবার জন্য।
তপু চলে গেল ঘর থেকে। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু কোথায় যেতে ইচ্ছে করছে সে বুঝতে পারছে না।
রাত এগারোটার দিকে তপু বাসায় ফিরল। এরমধ্যে তনু একবারও তাকে ফোন দেয়নি। অর্ক ঘুমিয়ে পড়েছে।
-তপু, কিছু কথা ছিল।
-এখন শুনতে ইচ্ছে করছে না।
-শুনতে ইচ্ছে না করলেও তোমার শুনতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।
তপু অসহায় দৃষ্টিতে তনুর দিকে তাকালো। তনু বলছে, আমি আমাদের এই সংসার জীবনের স্মৃতির পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখলাম। আসলে ব্যাপারটা কি জান, তুমি আমাকে অনেক ভালবাস, কিন্তু কখনো আমার ভুলগুলো শুধরে দাওনি। আমি ভুল করেছি, এটা আমার অপরাধ। কিন্তু তুমি ভুল সহ্য করেছ, এটা কি অপরাধ নয়? আমি কোন মিথ্যে মায়ার পিছনে ছুটেছি। আমাকে কি আরেকবার সুযোগ দেওয়া যায় না তোমার ভালবাসাকে শ্রদ্ধা জানানোর? ক্ষমা করা যায় না?
-ভালবাসার মানুষকে ক্ষমা করা যায় না, তাকে শুধু ভালবাসাই যায়। 
তপু তনুকে জড়িয়ে ধরেছে। দুজনেই নীরব। কিন্তু কথা বলছে দুজনের চোখের জল।
অর্কের ঘুম ভেঙে গেছে। সে তার আব্বু-আম্মুর রুমে এসে চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে আছে। সে এমন মুহূর্ত আগে সম্ভবত দেখেনি।
-আব্বু!
তপু কেন যেন একটু লজ্জা পেল। লজ্জা কাটিয়ে বলল, মাই সুপারম্যান, কাম অন।
অর্ক এক লাফে তপুর কোলে উঠে গেল।

Monday, September 11, 2017

বন্ধুত্ব পরম্পরায়

~ বন্ধুত্ব পরম্পরায় ~
.
→দোস্ত রিহান ৩:০০ টার দিকে একটু ক্যাম্পাসে আসবি..??
→কেন রে..??
→তোরে বিয়া করুম আর তারপর সিনেমা দেখতে যামু।
→হা..হা..হা..ভিলেনের মত হুট হাট এক গাল হেসে দিল।
আইচ্ছা খুশির খবর।আমুনে তৈরি হয়ে।
→আইচ্ছা আইসেন।
→আইচ্ছা থাকো বউ।
→এহ বউ..!!হারামি বিইয়া কি করছি তোরে।করার পর বউ বলিস।
→আইজকা বিইয়া করুম ই তোরে...!!থাক বাই।
→এই শোন দাঁড়া..!!এত তাড়াহুড়া কইরা কি বিইয়া করন যায়..???(ন্যাকামির সুরে) এই কাল্লু তুই কি ভাবছিস তোরে নিইয়া আমি বিইয়া কইরা সিনেমা দেখতে যামু হাচা হাচাই মফিজ..!!
→মুখ বাঁকাইয়া আ্যাঁ কি কইলি আমি মফিজ ..??
→হুঁ।
→চুপ কর ডাইনি।আমার মত একখান সিধেসাধা,ভদ্র,নম্র,সুশিল পোলা তুই কই পাবি শুনি..??আমি জানি পাবি না..!!
→এই কাল্লু চুপ কর এইবার।তোর সিনেমা নাটক বন্ধ কর।তিন টার দিকে আসবি। তোরে নিইয়া আমি কেনাকাটা করতে যামু নিউ মার্কেটে বুঝলি..??আমি কিইন্না দিমু আর তুই কেনাকাটা না হওয়া অবধি ধইরা থাইক্কা পিছনে পিছনে দৌড়াবি।
→কি কইলি..??আমি কি তোর চাকর..??
→হুঁ হইলে প্রবলেম কি।হইবি তো চাকর এক সময় তোর বউ পেত্নীর ।তাই আগে থেকে ট্রেনিং নে।
→দেখ অদ্রি তুই আমারে যা বলিস বল।তয় আমার ভবিষ্যৎ সোনা বউরে কিছু কইস না।তাইলে খারাপি হইব কইলাম।
→কেউ আমারে মাইরালা।এই ককাল্লুর আবার ভবিষ্যৎ সোনা বউ।তোরে কেউ বিইয়া করবে না।বুঝলি ..??
→তুই ডাইনি ই কোন দিন জামাই পাইবি না।
→এই চাকর চুপ কর।
→ আর যাহ সর তোর মত ডাইনি মেয়ের চাকর হমু.??তার থেকে ৭দিন না খেয়ে থাকাও ভালো।
→আইচ্চা যাহ কাল্লু ভাব দেখাইস না।তোর যাইতে হইব না।আমি একাই যামু।
→আরে শোন না অদ্রি এত রাগিস কেন।যামু। তয় শর্ত আছে।মানলে যামু।
→আইচ্ছা বল।
→ট্রিট দিতে হবে..!!দিবি..??
→কি ট্রিট দেবো রে ..?আর কেন দেবো..??
→দিবি..!!তুই তো বাড়ি থাইকা অনেক কিছু নিইয়া আইলি।আমারে কিছু রান্না কইরা খাওয়াইবি..??কাল পোলা আর মাংস রান্না করা নিইয়া আসবি।বুঝলি।তাইলে হাচাই যামু।
→শয়তানের মত এক ডিব্বা হাসি দিয়া ..ওহ আইচ্ছা তাইলে তুই ৩:০০ টার দিকে আসিস।
→ওকে।
.
.
এতক্ষণ যার সাথে ঝগড়া করলাম সে আমার কলেজ লাইফে পাওয়া সব চেয়ে ভাল বন্ধু রিহান।অবশ্য এখন ভার্সিটি তে পড়ি।
.
কাল্লু কাল্লু করলাম। আসলে ও নিগ্রো দের মত কালো।লম্বা হ্যাংলা।আঁটসাঁট স্বভাবের হলেও ব্যাপক দুষ্ট। ওর আর আমার বন্ধুত্ব বেশি দিনের নয়।মাত্র তিন বছরের।তবুও এই অল্প সময়ে ওকে আমি আর ও আমাকে যত টুকু চিনি হয়ত আমাদের থেকে কারো বেশি দিনের বন্ধুত্বেও কেউ কাউকে এত চেনে না।
.
যেখানে যাই ওকে নিয়েই যাই।আর ও যায় নিজ থেকেই পাহাড়াদারের মত।সব সময় বলবে শোন। একা বের হবি না বাইরে দিন কাল ভালো না কখন যে কি হয়।
আর বলবে শোন অদ্রি আমি রিহান যতদিন তোর সাথে আছি কোন দিন কষ্ট বা বেঈমানি করবো না। পারলে তোর দুঃখের ভাগ নেবো।আমাকে শুধু বন্ধু হয়ে পাশে থাকার সুযোগ দিস।
.
আমাদের বন্ধুত্ব আবার একে বারেই যে মধুর তা নয়।আছে হাসি,কান্না,ঝগড়া ,খুনসুটি। তিন বছরের বন্ধুত্বে অনেক বার ঝগড়া হইছে।অভিমান হইছে।দুজনেই অনেক ভেবেছি আর কথা বলবো না।কিন্তু সামনা সামনি হলে আর দুই ঘন্টা যেতে না যেতেই আবার পুরো দমে শুরু হয়ে গেছে কথা বলা।
আসলে এটাই হয়ত প্রকৃত বন্ধুত্বের বন্ধন।
.
বিকেল ৩:০০ টা...
→দোস্ত তোর মেসের নিচে আয়।আর একটু মিষ্টি হাসি দিয়ে দোস্ত যাই করিস ট্রিট নিইয়া আসিস।
→আইচ্ছা তুই দাঁড়া।আমি ট্রিট নিয়ে বের হচ্ছি।
.
মাথায় দুষ্টামি ফন্দি আঁটলাম। ট্রিট, ট্রিট আর ট্রিট।এই হারামিদের কিছু হতে না হতেই ট্রিট দিতে দিতেই জীবন তেজপাতা ।
.
সুন্দর দুইটা বক্স বের করে ছাদে উঠে তাতে বালু ভরে নিলাম।তারপর একটা সুন্দর ব্যাগে তুলে ব্যাগের মুখে স্ট্যাপলার মেরে নিয়ে হাতে ধরে দিলাম।
খুশিতে আত্নহারা হয়ে হাতে নিয়ে নিল।
→দোস্ত তোর শর্ত তো পূরণ করলাম।এইবার আমার কিছু কথা রাখতে হবে।
→হুম রাখুম।বল।
→এইটা তুই মেসে নিয়ে খুলবি।
→খুশিতে গদগদ হয়ে।আরে এখানে কেন খুলবো।রুমে নিয়ে গিয়ে বসে মজা করে খাবো।চল তাড়াতাড়ি মার্কেটে।
.
আমি ইচ্ছেমত শপিং কইরা ওর ঘাড়ে চড়াইয়া নিয়ে চলে আইলাম মেসে।
.
আর মনে মনে একশ খুশি হয়ে মিটিমিটি হাসছি।দেখবি এইবার গাধা ট্রিট কারে কয়।প্যাকেট খুলেই বালি পাবি।বইসা খেয়ে নিস।বুঝবি এইবার। হঁুহ।
.
রাত্রি ১১:০০ টা।শুয়ে শুয়ে রিহানের কথায় ভাবছি।কত্ত বোকাই না আজ বানালাম।এর মধ্যিই ওর ফোন ...
→গম্ভির ভারি গলায় অদ্রি..???
→আমি হাসতে হাসতে এই কাল্লু ট্রিট দিছি পাইছস..??
→তোর দেওয়া গিফট টা আমি মেসে নিয়ে রাখলাম।একটু বিশ্রাম নিয়ে বড় ভাই মোট কথা যে কয়জন বন্ধু আর পরিচিত বড় ভাই ছিল ওদের ডেকে নিলাম।
আসুন আপনারা আজ আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড অদ্রির স্পেশাল ট্রিট আমরা মজা করে খাবো।বলেই প্যাকেট খুলে বক্স খুলতেই দেখি বালি।সবাই হো হো শব্দে হেসে দিলো।আমার খুব অপমান লাগছিল।তুই এটা ঠিক করিস নি।
→এই শোন আমি তো জাস্ট ফান করছি রে ছাগল।কাল সবাইরে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসিস। প্রমিস সবাইরে খাওয়াবো।
কিন্তু রিহান ততক্ষণে লাইন কেটে দিয়েছে।
.
খুব খারাপ লাগছে।আসলে এত বড় ফান করা ঠিক হয়নি।অনেকবার কল মেসেজ করেছি কিন্তু কোন রেসপন্স পায়নি।
.
ভিতর টা কেমন যেন কষ্টে, যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল।এতবড় অপমান করলাম আমি। আমার ই দোষ।হয়ত আর ভ্যাবলাটা কথাই বলবে না।
.
ভাবতেই চোখ দিয়ে টপাটপ পানি পরে যাচ্ছে।
.
পরের দিন ক্যাম্পাসে...
→এই রিহান শোন...??
কিচ্ছু না বলে চলে গেল।ক্লাস শেষে বিকেলে বিশাল ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে একাই বসে কাঁদছি...
হঠাৎ পার্টি স্প্রে এসে পড়ল হাতের উপর...
.
এইসব কোথা থেকে আসলো খুঁজে দেখতেই সামনে চোখ তুলে দেখি রিহান ইয়া বড় একটা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সাথে ওর বন্ধু মহল আর বড় ভাই রা...
→রিহান শোন না তুই কি সত্যিই রাগ করছিস..??দেখ এইরকম হবে বুঝিনি..??দোস্ত ভুলে যা কালের ঘটনা।জাস্ট দুষ্টামি ছিল।
→অদ্রি...!!!বলেই চুপ হয়ে গেল সবাই।হা করে তাকিয়ে আছি সবার মুখের দিকে আবার কি হল সবার...
.
ডাকার প্রায় ৫ মিনিট পর সবাই এক সাথে...
→অদ্রি "হ্যাপি পয়দা দিবস" আর সাথে হ্যাপি ফ্রেন্ড শিপ ডে এর শুভেচ্ছা।
...
আমি ও ওদের শুভেচ্ছা জানালাম...
তারপর কেক কেটে নিলাম।খুশিতে চোখ দিয়ে সুখের অশ্রুধারা বইছে ততক্ষণেও...
.
রিহান ঃ রাগ করবো কেন বল..??আমি জানি তুই দুষ্ট বেশি আর তাই আমার সাথে দুষ্টামি করছিস।আর বন্ধুই তো বন্ধুর সাথে দুষ্টামি করবে তাই না পাগলি।
কাঁদিস না বলে চোখের পানি মুছে দিল।
তুই আমার জিবনে পাওয়া সব চেয়ে ভাল বন্ধু।তোর সাথে আমার অনেক হাসি,কান্না আর সুন্দর মুহুর্ত জড়িয়ে আছে।
.
আর তোকে সব চেয়ে ভাল বন্ধু হিসেবে অনেক ভাল বাসি।
→সত্যি ই স্যরি ...!! দেখ কান ধরেছি( এক হাতে কান ধরে)
→আরে কান ধরতে হবে না।তুই তো জানিস বন্ধুত্বে
"নো স্যরি, নো থ্যাংকস"
আর সব চেয়ে বড় কথা হলঃ বন্ধুত্বে শক্তি,বন্ধুত্বে জয়..নো রাগ নো অভিমান।
.
আমি আর রিহান আবার আগের মত স্বাভাবিক হয়ে গেলাম।
.
∅∅..আসলে জিবনে তখন ই স্বার্থক হয় যখন হাজার অপরাধ করার পর ও কেউ ক্ষমা করে আগের মত করে নেয়। জিবনে বেঁচে থাকতে মুল্যবান বা বেশি কিছুর প্রয়োজন পরে না যদি কোন বোঝার মানুষ থাকে।বা একজন ভাল বন্ধু থাকে।জিবনে চলার পথে একজন ভাল বন্ধু খুব ই দরকার।কারণ একজন ভাল বন্ধু আপনাকে নিজের থেকে বেশি মুল্যায়ণ করবে।আর সব সম্পর্কের আগেই উচিত একটা ভাল বন্ধুত্ব গড়ে তোলা।।
কারণ একজন মহৎ প্রেমিক প্রেমিকাও এক সময় শত্রুতে পরিনত হয়।কিন্তু একজন ভাল বন্ধু প্রকৃত বন্ধু যাইহোক হয়ে যাক না কেন সব সময় আপনার পাশে থেকে মঙ্গল কামনা করবে।

Sunday, September 10, 2017

গল্পঃ রসায়ন অপ বোন্টি



                                                        গল্পঃ রসায়ন অপ বোন্টি



-----> ভাইয়া ওঠ...
-----> কেন কি হয়ছে সকাল সকাল ডাকছিস কেন...?
-----> আজ অামরা কক্সবাজার যাচ্ছি।
-----> ওমা..! তাই...! অাগে বলবি তো। 
-----> ওক্কে রেডি হ।
.
অামি মুহিব আর যার সাথে কথা বলছিলাম তার নাম মোহনা। আমার ছোট বোন।অামরা দুইজন দুইজনের মত করে নিজেদের পরিবার কে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছি।
.
১০ মিনিট পর....
-----> অামি ঐই সিটে বসবো।
-----> না ঐইটাতে অামি বসবো..
-----> নাহ অামি..!
-----> নাহ.. অামি..
-----> নাহ অামি..
-----> ওক্কে বস তাহলে অামি পিছনে গিয়ে বসি। চকলেট আর অাচার গুলা নিছিলাম সেগুলা একা একা খেতে হবে।
-----> কি..! সত্যিই অাচার নিছস..?
-----> অামি কি তোরে কখনো মিথ্যা বলছি..?
-----> লক্ষি ভাই অামার.. সোনা ভাই অামার অামি তোর পাশে বসবো কেমন...?তুই আর অামি এক সাথে যাবো।
-----> বাহ..! ওক্কে।
.
আমার বোনটা অাচারের পাগলী। অাচারের জন্য সারা দিন মাথা টিপে দিবে সমস্যা নাই । এই জন্য আমি নিজের রুমের অাচার কিনে রেখে দেই যাতে বোনটা দিনে কয়েক বার পায়চারি করে অামার রুমে।
.
ভাবতে ভাবতে পৌছে গেলাম সাগর পাড়ে।অনেক গুলা পিক তুললাম তবু রাজকুমারীর একটায় অাবদার পিক তুলতে হবে।
-----> অামি অার পিক তুলতে পারবো না।
-----> কেন পারবি না।
-----> মন চাইতেছে না।
-----> ওক্কে। আমি তোর অাদরের বোন হলে তুলে দিতি কিন্তু অামি যখন তোর অাদরের বোন নই তাহলে তুলে দিস না।(প্রায় কেদে দিল)
-----> ওলে ওলে অামার বোনটি কান্দে কেন..! একশোটা না হাজারটা পিক তোলে দিব।
-----> সত্যিই দিবা..!
----->হুম। সত্যিই
-----> (ওম্মাহ-----) 
----->এটা কি হলো..?
----->কিছু না। ভাবি দেওয়ার অাগে অামি দিয়ে নিলাম।পরেতো সুযোগ পাবো না।
-----> কানের নিচে দিবো একটা।তোর জায়গা সব সময় তোর জন্য থাকবে। ভুলেও অন্য কথা মুখে অানবি না।-
---->সেটা না হয় পরে দেখবো।
----->ওক্কে। পজিশন নে। পিক তুলি।
ক্রিট...ক্রিট... ক্রিট..........
মেমোরী ফুল। অাগেই যা ভাবছিলাম।
-----> কিরে ভাইয়া দাড়িয়ে থাকবো নাকি..?
-----> তোর মত পেত্নীর পিক তুলবো না।
-----> কী..! আমি পেত্নী ...?
-----> হুম।
-----> পেত্নী ..
----->হুম।
শুরু হয়ে গেল কিল বর্ষণ।এটা কখনো শেষ হবে না। কারণ এটার মাধ্যমে অামাদের ভাই বোনের ভালবাসা বেড়ে যায় হাজার গুন।
.
কিন্তু অামাদের এই অানন্দটা বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি।কারণ গাড়ি করে অাসার সময় এক্সিডেন্টে মারা যায় বাবা-মা।মৃত্যুর পথ থেকে ফিরে অাসি অামি অার অামার বোন। 
.
কিছু দিনের মধ্যে দুইজনে মিলে বাবার রেখে যাওয়া টাকা গুলো দিয়ে ব্যবসা শুরু করি।বোনটা বাড়িতেই থাকতো। হঠাৎ একদিন অামি অাবার গাড়ি এক্সিডেন্ট করি।অপারেশনের জন্য জমানো সব টাকা খরচ হয়ে যায়।
.
ভিখারী হয়ে যায় অামরা। দুই ভাই বোন না খেয়ে রাস্তায় পাগলের মত হয়ে যেতাম। রাস্তার কুকুরের মত ঘুরতাম কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করতো না।
.
যারা বলে আমরা মানবতার কাজ করি কিন্তু তারা রাতের অাধারে নিরহ মানুষের ওপ ঝাপিয়ে পড়ে ভোগ করে তাদের দেহ। সেখান থেকে অামার বোনটিও বাদ যায় নি। অামার সামনে বার বার ভোগ করা হয়েছে অামার বোন টিকে।
.
আমরা মানুষ। অামাদের কাজ জীবকে সেবা করা কিন্তু অামরা...! কোন হেটেলে গিয়ে কোন দুর্ভাগা কিছু চাইলে গরম পানি জুটে দিয়।
.
একদিন বোনটাকে সারা দিন খুজে পায় নি। পরের দিন থাকার মত একটা বাসা পেয়ে ছিলাম কিন্তু বোনটার অাচরণ কেমন জানি হয়ে গেল।কিন্তু অাগে তো এমণ করতো না..!
.
তারপর থেকে প্রতিদিন বোনটা রাতে কোথায় চলে যেত বুঝতাম না ভাবতাম হয়তো কোন নাইট গার্মেন্টসে কাজ করে।
.
কিছুদিন পর অামার সেই ঔষুখ টা বেড়ে গেল। বোনটা ভর্তি করিয়ে দিল হাসপাতালে। কিন্তু তখন থেকে বোনের ওপর ক্ষোভ সৃষ্টি হতে থাকে কারণ আমার এতো অসুস্থতার পরেও বোনটা অামার পাশে থাকতো না কোথায় যেন হারিয়ে যেত। সময় মত এসে টাকা দিয়ে অামার চলে যেত।মনের ক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় ভাল না হয়েও ভাল হওয়ার আভিনয় করে চলে অাসলাম।
.
তারপর আমিও কাজ নি গার্মেন্টেসে।বোনের কাজটা কি করে তার কোন কিছু অনুসন্ধান করতে পারি নি।গরীবের সব কিছু নিয়ে অনুসন্ধান করতে নেই।
.
হঠাৎ আবারো রাস্তায় বসতো হলো কারণ আজ আমার সেই বোনটা মারা গেছে। মায়াবতীটা মারা গেছে।সে মারা যাবার পর বুঝতে পারি সে অামার কাছে কতটা গুরুত্ব পুর্ণ ছিল।
.
এখন অামি পাগল প্রায়। পকেটে টাকা নায় তাই কিছু খেতে পারি না।দোকানদারের ফেলে দেওয়া অবশিষ্ট গুলা খেতে চাইলেও গরম পানি পিঠে পড়ে।হতে হয় তাদের উপহাসের পাত্র।
.
আজ আমি সুইসাইড করবো কারণ আজ আমাকে অামার বোনটা সপ্নে ডেকেছে।খুব অাদর করে ডেকেছে।কিন্তু মরার আগেতো এই পৃথিবীতে স্বার্থপর গুলোদের জন্য কিছু লিখে যেতে হবে। তাই বোনের ডায়রীটা বের কারলাম। ডায়রীটা বের করতেই দেখি অনেক কিছু লেখা।পড়তে শুরু করলাম
.
আজ অামার বাবা ডায়রীটা আমাকে গিফট করেছে অামি অনেক খুশি কারণ বাবা মা ভাই অামাকে তাদের নিজের কলিজা মনে করে। অামি যা চাই তা এনে দেয়।
.
ভাইটা অাজ অামাকে অনেক গুলা অাচার এনে দিয়েছে।ভাইটা অামার খুব দুষ্ট। কখনো সোজা ভাবে কিচ্ছু দেয় না। সব সময় প্রথমে ঝগড়া করবে তারপর গিফট দিবে।
.
আজ অামরা কক্সবাজারে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ অামরা।কারণ কত জন পারে তাদের বাবা মার সাথে বেড়াতে যেতে।
.
আজ আমাদের জন্য কালো একটি অধ্যায় রচনা হলো।কে জানতো অামাদের সুখটা উধাও হয়ে যাবে জীবন থেকে। 
.
তবু ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুরে দাড়াতে পারলাম না। কারণ যে খানে কাজের জন্য গিয়ে ছিলাম সেখানে সবাই অামাকে ভোগ করতে চায় না হলে মোটা অংঙ্কের ভ্যাট দিতে হবে।
.
যখন করার মত কিছু নায় তায় নিজেকে বিলিয়ে দিলাম তাদের মাঝে। খুজে খুঁজে খেল তারা। অাচ্ছা পৃথিবীর কি এতোই নিষ্টুর।
.
তারপর যখন ভাইটা গাড়িটে এক্সিডেন্ট করলো তখন খদ্দরে খুজে টাকা বেশি রোজগার করতে থাকি কারণ ভাইটা আমার জীবনের সব।
.
আজ রক্ত পরিক্ষা করালাম। রক্তে ক্যান্সার হয়েছে। আমি হয়তো আর বেশি দিন বাচবো না। 
.
আমার কিছুতে দু:খ নায় শুধু দু:খ ভাইটা অামাকে অাগের মত অাচার এনে দেয় না। নাস্তা করাতে নিয়ে যায় না। কেমন জানি অামাকে সন্দেহ করে।কি করবো সবই পেটের দায়ে করতে হয়।
.
আজ অামার জীবনের শেষ দিন অাজ অামি মারা যাবো তাই ভাইটার তার স্পেসাল জিনিস রান্না করেছি।ভাইটা আজ খুব খুশি হবে। ওইতো ভাইয়া এসে গেছে.....
.
ডায়রীটা পড়ে মনকে বুঝাতে পারি নি। কি করে কি হলো কারণ বোনটা অামার জন্য এতো কিছু করেছে কিন্তু অামি তাকে ভুল বুঝেছি।
.
বোনটাকে এখনো দেখি নিজের সেই জায়গায়।সারা দিন যেখানে যায় তাকে শুধু মনে পড়ে। নিজেকে ক্ষমা করতে পারতেছি না কারণ তাকে না বুঝে কত খারাপ ভেবেছি।
.
অাসলে সব বোন গুলোই এমণ।কষ্ট পেলেও হাসবে। নিজে ভোগ করবে সব কষ্ট কিন্তু ভাইকে অাচ করতে দিবে না। আচ্ছা সব বোনকি এমণ...! যারা নিজের সব টুকু বিলিয়ে দিয়েও ভাইকে ভালবাসা। অাজ অামি বোনের কাছে হেরে গছি। হেরে গেছি তার নিরসার্থ ভালবাসার কাছে....